1. admin@dailygomutipratidin.com : admin :
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

মুরাদনগরের শতবর্ষী কোষা নৌকার হাট জমে উঠেছে

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪
  • ১৬ বার পঠিত

রায়হান চৌধুরী:

মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী রামচন্দ্রপুর বাজারে শত বছরের পুরনো কোষা নৌকার হট জমে উঠেছে। কাবের বির্বতনে রাস্তা-ঘট ব্রিড কালভার্ট তৈরি হওয়ায় ডিঙি, চোঙা, সাম্পান, বদরা, খয়না, বাইচের, বারনাই, বাচারি, ময়ূরপঙ্খী, বানার, খাননী, পাতম, একমালাই, মলার, ইনশা ও সৎদাগরী নৌকা বড় বড় পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটলেও শতবর্ষী রামচন্দ্রপুর বাজারে কোষা নৌকার। নৌকার হাট এখনো টিকে আছে কানের সাক্ষী হয়ে। চলছে বর্ষার মৌসুম। ভারি বর্ষণে নাম নদীতে থৈ থৈ পানি হওয়ায় এই হাটে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা, নরসিংদীর মাদবদী উপজেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এবং কুমিল্লার হোমনা, তিভান ও মুরাদনগর উপজেলার শত শত মানুষ নৌকা কিনতে ও বিক্রি করতে আসছে। মুরাদনগর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৭১ নাম নদীর মধ্যে নিভাস, গোমতী, আরচি ও বুড়ি নদী এবং অদের খান, নিমাইজুড়ি খান, বিল, হাওর-বাওরে প্রতিটি জনপদে বাড়ছে পানি। এতে কদর বেড়েছে ছোট ছোট নৌকার। নব্যদমিন রামচন্দ্রপুর নৌকার হাটে দেখা গেছে, প্রতি মঙ্গনবার সাপ্তাহিক হাটে রামচন্দ্রপুর বাড়ার বনে টার্মিনাল ও কাচারি বাজারে এলাকাজুড়ে নানা রকমের ছোট ছোট নৌকা। পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন করেছে সারিবদ্ধভাবে রাখা শত শত কোষা নৌকা। ক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে হাট। এখানে সাধ্যের মধ্যে সব শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য পাওয়া যাচ্ছে নানা মাপের নৌকা। কাঠ এমনিতে নৌকা প্রস্তুত করে রাখে। ভাটি অঞ্চলের মানুষ রামচন্দ্রপুর বাজার ও ডুমুরিয়া বাজার হাট থেকে নৌকা কেনে।

কৈজুরি গ্রামের নৌকার কারিগর বামপ্রসাদ সরকার ও বিক্রেতা বিমল সরকার বলেন, প্রতি সপ্তাহে কারিগররা ১০ থেকে ১২টি নৌকা তৈরি করে হাটে নিয়ে আনে। বর্তমানে কাঠ লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। আমরা জামরুল, বেইনটি, আম, কদম ও শিমুল কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করি। নৌকা কিনতে এসেছেন, নবীনগার উপজেলা রমনপুর ইউনিয়নের

বাদে বিশাড়া গ্রামের মাহমুদুর রহমান সুমন। তিনি বলেন, আমার মাছের প্রজেক্ট আছে। আমাদের গ্রামটি ছোট। খুবই নিচু এলাকা। সামান্য বর্ষাতে রাস্তা-ঘাট-ব্রিড এলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। নৌকা ঘাটের ইজারাদার মুর্শিদ মিয়া বলেন, এখানে নামমাত্র নৌকার টেক্স নেয়া হয়। এসবের মধ্যে হাতে বাওয়া নৌকা যেমন রয়েছে তেমনি আছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ছোট নৌকা ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা, মাঝারি নৌকা ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং ব্য নৌকা ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আমিননগর গ্রামের ইউপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন ও স্থায়ী বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বছরে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে ভদ্রে মান পর্যন্ত এই অঙ্গনের কোষা নৌকার সবচেয়ে বড় হাট বসে। এই নময় বর্ষা দেখা দেয়। রামচন্দ্রপুর নৌকার হাটে এ সময় ভিড় দেখেই থাকে। নৌকা তৈরির কারিগররা দিন-রাত ধরে নৌকা তৈরি করছেন। এখন তাদের ব্যস্ত সময়, অষের সময়। রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন সরকার বলেন, রামচন্দ্রপুর বাগদারের আশপাশের উপজেলা সবকটি ইউনিয়নে বর্ষা আসনেই নৌকা কিনতে আনে। প্রতি মঙ্গলবার সকাল থেকে নন্ধ্যা পর্যন্ত ২০০ থেকে ৩০০ নৌকা বেচাকেনা হয়। এ অঞ্চনের চাহিদা অনুযায়ী নব ধরনের নৌকা পাওয়া যায়। উপজেলা চেয়ারম্যান ড. আহসানুল আলম সরকার কিশোর বলেন, ডিভান নদীর পাড়ে রামচন্দ্রপুর বাজারটি আমার ইউনিয়নে পড়েছে। রামচন্দ্রপুর বাজার নৌকা হাটটি কুমিল্লা জেনা ঐতিহ্যের নঙ্গে মিলে মিশে আছে। মানুষের যাতাযাদব্যবস্থা জল ও স্থল পথে রয়েছে। ঐতিহাসিক রামচন্দ্রপুর বাজার সাপ্তাহিক হাটের সুনাম রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, বাবুর হাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাটে নৌকা কিনতে আসে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। রামচন্দ্রপুর বাজারে নৌকার ঘাটেই এখন ক্রেতার ভি থাকে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ দৈনিক গোমতী প্রতিদিন
Theme Customized By Shakil IT Park